
কুষ্টিয়া পৌরসভা নির্বাচনে ১৬, ১৭ ও ১৮ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনে নারী কাউন্সিলর পদপ্রার্থী বিউটি খাতুনের প্রচার-প্রচারণা, বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেতে চান
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।
কুষ্টিয়া পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোছাঃ বিউটি খাতুন তার নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা জোরদার করেছেন। তিনি ১৬, ১৭ ও ১৮ নং ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এলাকায় তাকে "সু-পরিচিত ও সু-শিক্ষিত" হিসেবে গণ্য করা হয়, যা তার প্রচারণায় একটি বড় ইতিবাচক দিক।
তার নির্বাচনী স্লোগান "উন্নয়ন হোক আমাদের লক্ষ্য" এবং তার মূল অঙ্গীকার "আসুন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমাকে সুযোগ দিন" - এর মাধ্যমে তিনি ওয়ার্ডবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন। তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করছেন।
বিউটি খাতুন কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৬নং ওয়ার্ড বাড়াদী মহল্লার আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী। পেশায় গৃহিনী হলেও তিনি কুষ্টিয়া জেলা জাতীয়তাবাদী পেশাজীবি দলের মহিলা সহ সম্পাদক।
বিউটি খাতুনের নির্বাচনী অঙ্গীকারে ওয়ার্ডের সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও তিনি নারী, শিশু ও প্রবীণদের কল্যাণে কাজ করার এবং জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এলাকাবাসীর মধ্যে তার প্রতি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, তিনি একজন শিক্ষিত এবং সচেতন নারী, তাই এলাকার উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলে তারা আশা করছেন। তার প্রচারণায় ওয়ার্ডবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
বিউটি খাতুনের এই নির্বাচনী তৎপরতা কুষ্টিয়া পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনকে আরও আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে। নারী নেতৃত্বের বিকাশে তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নির্বাচনকে ঘিরে এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশ সরগরম হয়ে উঠেছে।
তার সাথে এই নির্বাচনি বিষয় নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, আমার বাবা এবং স্বামী বিএনপির দল করে। তাই আমিও বিএনপিকে ভালোবাসি এবং দল করি।দলের আদর্শকে লালন পালন করি। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৭ বছর নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তাই আমি অবহেলিত, নির্যাতিত,সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। "আমি তিন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেছি। আমার ১৬, ১৭ ও ১৮, তিন ওয়ার্ডের সবার সাথে কথা বলেছি। আমার বয়োজ্যেষ্ঠ যারা আছেন-ভাই, বোন, গরীব-দুঃখী সবার সাথে কথা বলেছি। তারা সবাই চাইছে একটা নতুন মুখ। কারণ এর আগে যারা ছিল তারা এলাকার কোনো উন্নতি করে নাই। যেমন ছিল এলাকার অবস্থান তেমনই আছে।
পৌরসভার ভেতরে আমাদের এই তিনটি ওয়ার্ডে রাস্তাঘাটের সমস্যা আছে, এখানে ড্রেন নাই। আমাদের জনগণের খুবই দুঃখ-দুর্দশা। এলাকার সেরকম কোনো উন্নতি হয় নাই। তাই সবাই চাচ্ছে যে আমাকে সমর্থন করতে বা আমার পাশে থাকতে। সবাই উদ্বুদ্ধ করেছে যে, ‘আপনি আমাদের এলাকায় কাজ করেন, আমরা ইনশাল্লাহ আপনার পাশে আছি।’ সবাই আমাকে আশ্বাস দিয়েছে।
আমিও সেভাবে এলাকায় সবার সাথে যাচ্ছি, সবার কাছে যাচ্ছি এবং সবার সাথে কথা বলছি। আমি চেষ্টা করব সকলের দাবি রাখার। সকলের প্রতি আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, তারা আমার পাশে থাকলে আমি বিজয়ী হতে পারলে ইনশাল্লাহ তাদের দাবি-দাওয়া, তাদের আশা আমি পূরণ করব। আমার এলাকার উন্নয়নমূলক যত কাজ আছে, আমি সেই কাজগুলো কমপ্লিট করব।
যেহেতু আমি বিএনপি করি, তাই দলের প্রতি আশা আছে। আমি চাই বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেলে দলের প্রতি ভালোবাসা রেখে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করব। এবং আমি চাইব যে বিএনপি দল থেকে আমাকে সমর্থন দেয়া হোক।
আর এলাকার মানুষও চাইছে আমাকে যে, আমি এলাকায় যেহেতু এর আগে কাজ করেছি, সেই থেকে আমার পরিচিতি একটা আছে। সবাই এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বি যারা আছে, তারা আমাকে বেছে নিয়েছে প্রতিনিধি হিসেবে। তারা চাচ্ছে যে বিএনপি থেকে আমি প্রতিনিধি হই ।
এলাকার উন্নতি করব, যেমন আমাদের এলাকায় রাস্তাঘাটের সমস্যা আছে। বৃষ্টি-বাদল হয়ে গেলে আমাদের ওই পাশটাতে নিচু এলাকায় পানি বেঁধে যায়। আমাদের এলাকায় ড্রেন নাই। আমাদের কৃষক ভাইয়েরা সারের সমস্যার মধ্যে আছে। আরও আমাদের এলাকায় আরও অনেক সমস্যা আছে। আমি তিন ওয়ার্ড মিলে আরও অনেক সমস্যা দেখেছি। আমাদের গরীব-দুঃখী যারা আছে, তাদের অনেক সমস্যা আছে। আমি তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।
এলাকায় মাদকের সমস্যা এতটা ভয়াবহ হয়ে গিয়েছে, আমি এলাকার প্রতিনিধি হতে পারলে এ বিষয়েও কাজ করব। যাতে আমাদের এলাকা মাদক মুক্ত এলাকা থাকে।
জনগণ চাচ্ছে একটা নতুন প্রতিনিধি আসুক। কারণ এর আগে ১৭ বছর যারা কাজ করেছে, তারা কোনো উন্নয়নমূলক কাজ দেখাতে পারেনি। রানিং যে ছিল সেও কোনো কাজ করতে পারেনি। এবার চাচ্ছে তারা নতুন কেউ আসুক আর এলাকার উন্নয়নমূলক কাজগুলো তার হাত দিয়ে হোক।
জনগণের প্রতি উদ্দেশ্য করে আমি বলতে চাই , আমি আপনাদের পাশে আছি। আপনাদের সেবক হিসেবে আছি, আপনাদের সেবিকা হিসেবে আছি। আমাকে কাজ করার সুযোগ দিন, আমি ইনশাল্লাহ আপনাদের পাশে থাকব।"